+91 9330828434 +91 9804424251 banglalivenews@gmail.com

গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকতে চায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা - January 14, 2026 12:29 pm

গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকতে চায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরামহীন চাপের মুখে গ্রীনল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত হতে চায় না। বরং তারা ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকতে চান।

গ্রীনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন কপেনহেগেনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন-এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা এখন একটি রাজনৈতিক সঙ্কটের সম্মুখীন। যদি আমাদেরকে এখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমরা ডেনমার্ককে নির্বাচন করব।”

নীলসেনের এই মন্তব্যটি এমন এক সময় এল যখন ডেনমার্ক ও গ্রীনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স–এর মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের চাপকে কমানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রাজ্যের সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছে যে গ্রীনল্যান্ডকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ব্যাপারে আগ্রহী। সেটা আর্থিক উপায়ে হোক বা সামরিক শক্তির মাধ্যমে। যেকোনও মাধ্যমে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে নিতে চান। নিলসেনের মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানান যে, যদি গ্রীনল্যান্ড তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে, তাহলে তা “একটি বড় সমস্যার” সৃষ্টি করতে পারে।

স্থানীয় জনমত সমীক্ষা দেখিয়েছে যে অধিকাংশ গ্রীনল্যান্ডবাসীই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দিতে আগ্রহী নয়। ব্লুমবার্গ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের মার্চে নির্বাচনে গ্রীনল্যান্ডের ভোটারদের চার জনের মধ্যে তিন জন এমন রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন যারা শুধু ধীরে ধীরে স্বাধীনতার দিকে এগোতে চায়, সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে নয়।

যখন নিলসেনকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে গ্রীনল্যান্ড কি স্বাধীনতা আলোচনাকে ত্যাগ করছে, তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা সবার আগে দরকার। গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এবং মৌলিক নীতিগুলি রক্ষায় একত্রে আছে।”

জার্মানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস মঙ্গলবার বলেন, “উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কেবলমাত্র সমন্বিতভাবে অর্জিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী খোলামেলা আলোচনায় সব প্রশ্নগুলো সমাধান হবে এবং উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তার জন্য যৌথ দায়িত্ব পালন করা হবে।”

এই প্রতিক্রিয়াগুলোই দেখাচ্ছে যে গ্রীনল্যান্ড কেবল একটি দ্বীপ নয়—অন্তর্জাতিক কূটনৈতিকতা ও রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খণ্ড যা বিশ্ব নেতাদের নজর কাড়ে রেখেছে। তবে আপাতত ট্রাম্পের চিন্তায় জল ঢেলে দিল তারা।


আরও পড়ুন:

Follow Bangla Live on Facebook

Follow Bangla Live on YouTube