ভারত রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে – রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন থেকে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। ভারত এখনও নিজে কিছুই জানায়নি। বুধবার রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছে যে, ভারত রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে, এই কথা বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই।
সংবাদসংস্থার পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, “আমাদের বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই যে ভারত রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ভারতের রাশিয়ান তেল ক্রয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।”
জাখারোভা মার্কিন নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবিতে নতুন কিছু নেই, তাঁরা স্বাধীন দেশগুলিকে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।”
ভারত-মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার তেল ক্রয়ের কারণে ভারতের উপর আরোপ করা ২৫ শতাংশ শুল্কও। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের পর, মার্কিন কর্তারা দাবি করেন যে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ভারত এই বিষয়ে নীরব রয়েছে এখনও। বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী বলেছিলেন, “ভারত কোথা থেকে জ্বালানি আমদানি করবে আর কোথা থেকে নয়, তা নিয়ে অতীতে সরকারের তরফে বার বার অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক পূর্বে বলেছিল, ভারত সর্বদাই তার জাতীয় স্বার্থ দেখবে। এদিকে, রাশিয়া অভিযোগ করেছে যে আমেরিকা ভারত এবং অন্যান্য দেশকে রাশিয়ার তেল কিনতে বাধা দেওয়ার জন্য শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা-সহ নানা চাপের কৌশল ব্যবহার করছে।
ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি দু’বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারিতে ভারতের মোট আমদানির মাত্র ২১.২ শতাংশ ছিল রাশিয়ার তেল। ২০২২ সালের শেষের পর থেকে সবচেয়ে কম। ২০২২ সালের পর রাশিয়া ভারতের শীর্ষ সরবরাহকারী হয়ে ওঠে। একসময় প্রায় ৪০ শতাংশ তেল কেনা হচ্ছিল রাশিয়া থেকে। তবে, পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি তেল ক্রয়ের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। রাশিয়ার বৃহত্তম সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেল ক্রেতা হিসেবে চীন এখন ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।
ভারতীয় পরিশোধকরা অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্রয় বৃদ্ধি করেছে। জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে লাতিন আমেরিকান সরবরাহ ১২ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরব থেকে কেনা তেলের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে আগামী মাসগুলিতে রাশিয়ার তেল কেনার পরিমাণ আরও হ্রাস পাবে, যদিও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে না। কারণ, ভারত জ্বালানি ক্রয়ে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতির উপর জোর দিয়েছে।
