১২ লক্ষ টাকার সামান্য বেশি যাদের আয়, তাঁদের ‘মার্জিনাল রিলিফ’ দেওয়া হবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাজেট পেশ করতে গিয়ে মধ্যবিত্তকে সুরাহা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যাঁদের আয়, তাঁদের কোনও আয়কর দিতে হবে না। মঙ্গলবার লোকসভায় অর্থ বিল নিয়ে আলোচনায় নির্মলা জানিয়েছেন, ১২ লক্ষ টাকার সামান্য বেশি যাদের আয়, তাঁদের ‘মার্জিনাল রিলিফ’ দেওয়া হবে।
কী এই ‘মার্জিনাল রিলিফ’? অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, যদি কারও আয় বছরে ১২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা হয়, তাহলে তাঁকে মাত্র ১০ হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। ‘মার্জিনাল রিলিফ’ না থাকলে তাঁকে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিতে হত। যদি কারও আয় ১২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হয়, তাঁকে ২০ হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। ‘মার্জিনাল রিলিফ’ না থাকলে তাঁকে দিতে হত ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা।
বাজেটে নতুন কর ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছিলেন নির্মলা। জানিয়েছিলেন ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে রিবেট দেওয়া হবে। অর্থাৎ যাতে কোনও আয়কর দিতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রশ্ন উঠেছিল, ১২ লক্ষের সামান্য বেশি আয় হলে কত আয়কর গুণতে হবে? তাঁদের কী পুরো আয়কর দিতে হবে? অর্থমন্ত্রী সেই বিষয়ে জানান, চাকরিজীবিদের ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কোনও আয়কর দিতে হবে না। তাঁরা ৭৫ হাজার টাকা ‘স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন’ পাবেন। বাকিদের ক্ষেত্রে ১২ লক্ষের উপরে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ে ‘মার্জিনাল রিলিফ’ থাকবে। যাঁদের আয় ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা তাঁদের ৭১ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “২০২৫-২৬ সালে ব্যক্তিগত আয়কর সংগ্রহ ১৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে সংশোধিত আয়কর সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা। ” এক লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া রাজস্বের হিসেব করার পর ৭% হ্রাসের কথা বিবেচনা করলে, নতুন অর্থবর্ষে ব্যক্তিগত আয়কর রাজস্ব ১৩.১৪% বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছে অর্থমন্ত্রক।
মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ হয়েছে অর্থ বিল ২০২৫। এর মধ্যে ৩৫টি সংশোধনী আনা হয়েছে। যেমন অনলাইন বিজ্ঞাপনের উপর ৬% ডিজিটাল কর বাতিল করা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৪.৪% রাজস্ব ঘাটতির পূর্বাভাসও। মূলধন ব্যয় ১১.২২ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে রাজ্যগুলির জন্য বরাদ্দ ৪.৯১ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। এ বার রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হওয়ার অপেক্ষা।