‘ইসলামিক আইন’ তালিবানরা আনলে কি আতঙ্কের!
শরিয়া আইন যাকে আদতে বলা হয় ‘ইসলামিক আইন’। আরবিতে শরিয়া শব্দের অর্থ ‘আইন’ বা ‘পথ’। কোরান শরিফের উৎস যা, এই শরিয়া আইনেরও সেই একই উৎস। মূলত চারটি উ১সের ওপর ভিত্তি করে লেখা কোরান— সুন্নাহ্, হাদিশ (মহম্মদের বাণী), কিয়াস (প্রথম দু’টি ব্যাখ্যা), ইজমা (আইনবিদদের মত)।
ধীরে ধীরে একের পর এক দেশে ছড়িয়ে ইসলাম ধর্ম। তখন সেই ধর্মের সঙ্গে মিশেছে স্থানীয় ধ্যানধারণা, লোকাচার, সংস্কৃতি। এক এক জায়গায় এক এক ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কোরান। এক এক জায়গায় লঘু হয়েছে আইনের বিধি। আধুনিক বিশ্বে, আধুনিক দেশে শরিয়া আইনের ধার অনেকটাই কম।
অপরাধ আইনকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছে এই শরিয়া আইন—
• হুদুদ (সীমা): ইসলামে নিষিদ্ধ কোনও কাজ করলে চরম শাস্তি দেওয়া হয় এই আইনে। যেমন পাথর ছুড়ে মারা, ফাঁসি, হাত, পা ছিড়ে নেওয়া বা কেটে দেওয়া। জিনা (অবৈধ যৌন সংসর্গ), জাতীয় সড়কে ডাকাতি, চুরি, মদ্যপানের সাজা হিসেবে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
• কিসাস: এই আইনে খুনের সাজা মৃত্যুদণ্ড। অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের ইচ্ছায় অপরাধীকে এই আইনে সাজা দেওয়া হয়। তারা চাইলে অপরাধীর প্রাণদণ্ড মকুব করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন।
• তাজির: শরিয়া আইনে যেসব অপরাধের শাস্তির কথা বলা নেই, সেসব অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করেন বিচারক। যেমন ডাকাতির চেষ্টা, ইন্টারকোর্স ছাড়া সংসর্গ ইত্যাদি।
শুধু অপরাধ নয়, বিয়ে, বিচ্ছেদ সহ সমস্ক বিষয়েই কড়া বিধি রয়েছে শরিয়া আইনে। এখন ৫০টি দেশে শরিয়া আইনের কিছু কিছু অংশ মানা হয়। তার মধ্যে ৮টি দেশে কট্টর শরিয়া আইন মেনে চলা হয়। সৌদি আরব, ইরান, ব্রুনেই, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, পাকিস্তান, নাইজিরিয়া, কাতার। সৌদি অবশ্য সম্প্রতি মেয়েদের একা বাড়ি থেকে বেরনো এবং গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়েছে।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ছিল তালিবান। তখন সেখানে কট্টর শরিয়া আইন পালন করা হত। রাস্তায় পাথর ছুড়ে অপরাধী সাজা আকছাড়া। মেয়েদের ঘরবন্দি করা হয়েছিল। ২০০১ থেকে ক্রমে ধীরে ধীরে স্বাধীন হয়েছে আফগানিস্তান। মেয়েরা স্বাধীনতা অর্দন করেছে। ফের তালিবান ক্ষমতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই চাপে আফগানরা।
